ঢাকা: ব্যাংক খাতে সুশাসন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’। বিশেষত প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে সংগঠনের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ‘নিউ এজ’ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সদস্য নূরুল কবীর।
তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ, ব্যাংক সংস্কারের ধীরগতি, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিয়ে গভর্নরের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।
নূরুল কবীর বলেন, সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে আমানতকারীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠকে গভর্নর ব্যাংক খাত সংস্কারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বলে জানান তিনি। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে গভর্নর আশ্বাস দিয়েছেন।
আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে -এ চলমান অস্থিরতার বিষয়টিও উঠে আসে। ব্যাংকটির পরিস্থিতি, গ্রাহকদের উদ্বেগ এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিরা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত নীতি ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
বৈঠক শেষে নূরুল কবীর বলেন, দেশের আর্থিক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।