ঢাকা: রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও সিগন্যালে ট্রাফিক আইন অমান্য করতে নিষেধ করায় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন এই তথ্য জানিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- আফিয়া কনক (৪৫), শামসুজ্জামান (৫১) ও রাজু আহম্মেদ (২৯)।
ডিসি নাসিরুদ্দিন বলেন, শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে হাতিরঝিল থানাধীন হোটেল সোনারগাঁওয়ের বহির্গমন (ভিতরের) গেট থেকে দুটি গাড়ি মেইন রাস্তায় বের হয়। এ সময় সোনারগাঁও সিগন্যালের উত্তর পাশের যানবাহন চলাচলের সিগন্যাল চালু থাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. শামীম মিয়া গাড়ি দুটিকে পেছনে যেতে বলেন। এ সময় গাড়িটি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে জোরপূর্বক সামনে এগোতে থাকে। গাড়ি থেকে ৪ থেকে ৫ জন লোক নেমে এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে বলে, গাড়িতে ভিআইপি আছে পেছানো যাবে না। এ সময় ট্রাফিক কনস্টেবল শামীম মিয়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে গাড়িটির নেম প্লেটের ভিডিও করতে গেলে গাড়ি থেকে ভিআইপি জনৈক নারী আফিয়া কনক নেমে এসে পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন এবং রাস্তায় ছুঁড়ে মেরে ভেঙে ফেলেন। একই সাথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি আটক করা সম্ভব না হলেও, ঘটনার সাথে জড়িত অতিথি গ্রুপের দুই সিকিউরিটি কর্মী রাজু আহমেদ ও শামসুজ্জামানকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার মূল হোতা আফিয়া কনকসহ তিন আসামিকে তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে সড়ক পরিবহন আইনের ধারা মোতাবেক আফিয়া কনককে ১০ হাজার টাকা ও রাজুকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত শামসুজ্জামানকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।