ঢাকা: সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনুমোদনবিহীন বিদেশি বিমানে হজযাত্রী পরিবহনের চেষ্টার অভিযোগে ‘মিডিয়া ট্রাভেল সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামক একটি এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেসঙ্গে বিধিভঙ্গের এই অপরাধে ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে কেন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ৭ কর্মদিবসের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) এক জরুরি চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় মন্ত্রণালয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে লিড এজেন্সি হিসেবে মিডিয়া ট্রাভেল সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে সমন্বয়কারী এজেন্সিসহ মোট ২ হাজার ৩০৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গত ১৯ মে পাঠানো একটি পত্রে দেখা যায়, সরকারের অনুমোদিত তিনটি এয়ারলাইন্সের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অননুমোদিত বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্স ব্যবহার করে ১২২ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে চলতি বছরের হজযাত্রী পরিবহনের জন্য সরকার অনুমোদিত একমাত্র এয়ারলাইন্সগুলো হলো, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এজেন্সিটি নিয়ম লঙ্ঘন করে কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, ওমান এয়ার, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইদুবাইসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের কার্যক্রম ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬’ এবং বাংলাদেশ সরকার ও সৌদি সরকারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তির পরিপন্থি। এতে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হজ নীতিমালার বিশেষ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কোটা পাওয়া কোনো যাত্রী তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে কিংবা অননুমোদিত রুটে সৌদি আরব ভ্রমণ করতে পারবেন না। এই কঠোর নির্দেশনা অমান্য করায় মিডিয়া ট্রাভেল সার্ভিসেসের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে খতিয়ে দেখছে সরকার। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে এজেন্সিটির লাইসেন্স বাতিলসহ বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।