ঢাকা: বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে আবারও ফিরছে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ বা ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ বাক্যটি। সব ধরনের পাসপোর্টে ধাপে ধাপে এটি পুনর্বহাল করা হবে। সেসঙ্গে পাসপোর্টের ভেতরের পাতার সামগ্রিক নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন ডিজাইনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের ছবিসহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও নিদর্শনের জলছাপ বা ওয়াটারমার্ক যুক্ত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, নতুন এই পরিবর্তনের ফলে পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘দিস পাসপোর্ট ইস ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিস অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ) বাক্যটি। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি পাসপোর্টে এই ঘোষণাটি চালু ছিল। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করার সময় পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন নকশায় পূর্বের বেশ কিছু ছবি ও প্রতীক বাদ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, যমুনা সেতু, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও নৌকার ছবি। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবিও নতুন পাসপোর্ট থেকে বাদ যাচ্ছে।
সেসঙ্গে নতুন ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি। এর পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে বঙ্গভবন, জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আহসান মঞ্জিল, কুমিল্লার শালবন বিহার, বান্দরবানের নীলগিরি, রাজশাহীর আমবাগান, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পানামনগরী।
জানা গেছে, নতুন নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুতই এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হবে।