ঢাকা: রাজধানীর রূপনগরে জানে আলম (৪০) নামের চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
বুধবার (২০ মে) সকালে র্যাব-৪ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. রানা (২৫), মো. আবু হানিফ (২৭), মো. মিনহাজ (২২), মো. কুরবান আলী (২৭) এবং মো. সিয়াম (২১)। ঢাকা ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জন জড়িত ছিল, যার পরিকল্পনা মূলত টঙ্গীতে করা হয়। অভিযুক্তরা পরস্পর বন্ধু। তারা নিয়মিত ছোট-খাটো চুরি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা পরিকল্পনা করে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের। পরিকল্পানা মোতাবেক গত ১৩ মে রাতে রানা, মিনহাজ, কুরবান, আবু হানিফসহ চক্রের বাকি সদস্যরা দিয়াবাড়ীতে মিলিত হয়। আনুমানিক রাত ১টার দিকে রানা দিয়াবাড়ীতে একটি অটোরিকশা ভাড়া করে। অটোরিকশায় উঠে তারা চালককে বেড়িবাঁধ এলাকার দিকে যেতে বলে। পরিকল্পনা মোতাবেক তারা অটোরিকশা চালককে একটি নির্জন জায়গায় থামতে বলে। চালক অটোরিকশা থামালে রানাসহ তার বাকি সহযোগীরা মিলে সুকৌশলে গামছা দিয়ে চালকের শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে মরদেহটি কম্বল মুড়িয়ে বস্তার ভিতরে ভরে বেশ কয়েকটি জায়গায় ফেলানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় বেড়িবাঁধ পেপসির মোড় সংলগ্ন পাঁকা রাস্তার ঢালে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে অটোরিকশা ও ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে তারা টঙ্গীর উদ্দেশে রওনা করে। টঙ্গীতে চোরাই অটোরিকশা বেচাকেনা চক্রের নিকট ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয়।
র্যাব আরও জানায়, গত ১৬ মে রূপনগর থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকার পেপসির মোড় সংলগ্ন পাঁকা রাস্তার ঢালে একটি বস্তাবন্দি অর্ধ-গলিত অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যায়। এই তথ্য র্যাব-৪ জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে সিআইডি অজ্ঞাত লাশটির পরিচয় নিশ্চিত করে। এই ঘটনায় ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে রূপনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে। এরপর ১৯ মে আশুলিয়া ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার ও অটোরিকশা উদ্ধার করে।
গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এবং গাজীপুরে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।