Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মাতৃদুগ্ধ না পাওয়ায় ও পুষ্টিহীনতায় শিশুরা হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২৬ ১৮:৪৮ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ২২:৫০

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ছয় থেকে নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুরা হামে আক্রান্তের কারণ তাদের মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া ও পুষ্টিহীনতা। মা নিজেই অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং অনেক শিশু জন্মের পর শালদুধও পাচ্ছে না।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতালগুলোতে গিয়ে আমি দেখেছি অনেক মা নিজেই অপুষ্টিতে ভুগছেন। তাদের অবস্থা হাড্ডিসার। তাই অনেক শিশু জন্মের পর শালদুধও পাচ্ছে না। ফলে শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, হামের জটিলতায় আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুই পরে নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাম ভালো হওয়ার পরও সেকেন্ডারি ইনফেকশন ও নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হচ্ছে। গতকাল প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যু শূন্য ছিল। আক্রান্তের সংখ্যাও কমছে। মাতৃদুগ্ধ পান, পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা, আইসোলেশন এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম ও ডেঙ্গু দুই রোগই অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত হাম টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একপর্যায়ে দেশে হামের টিকাও ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় টিকা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে জোর না দিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

ডাক্তারদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা টেন্ডার, নিয়োগ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হেলথ সেক্টরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। স্বাস্থ্য খাতকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।

সেমিনারে হামের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলিফ্যামিলি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক। সেমিনারে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাব-এর গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো সায়েম।

ড্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব-এর সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম ও ড্যাব-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর