জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংবাদ সম্মেলন করে দোষীকে গ্রেফতার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর জানান, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৪ মে বিকেল ৩টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে জরুরি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু, পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণশ্রমিক ও দোকানকর্মীদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি, ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ, গেট ও সীমানাপ্রাচীর মেরামত, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ গেট, প্রান্তিক গেট ও গেরুয়া গেটে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের কথাও জানানো হয়। একই সঙ্গে আরও ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য ইউজিসিতে অনুমোদন চাওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে এবং আল বেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাতে আবাসিক হলে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এক নারী শিক্ষার্থী বহিরাগত এক দুষ্কৃতকারীর হামলার শিকার হন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে টেনে-হিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। ১৩ মে রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ।
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।