Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিগগিরই একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানিসম্পদ মন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ১৭:৩৩ | আপডেট: ৬ মে ২০২৬ ২০:২৫

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি, সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে।

বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সচেয়ে বড় প্রজেক্ট পদ্মা ব্যারেজ সেটার স্টাডি রিপোর্ট, কারিগরি দিক, সমীক্ষা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একনেক সভা যেদিন হবে সেদিন প্রকল্পটি উপস্থাপন হবে।

তার আগ পর্যন্ত আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী কাজ সম্পন্ন করা দরকার- ইমিডিয়েট সেটা নিয়ে আমরা বিশেষ আলোচনা করেছি। কারণ এই পদ্মা ব্যারেজটি বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জনগণের সুবিধার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এই প্রজেক্টটি নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রজেক্টে আমাদের নর্থ বেঙ্গলের প্রায় ২৪ টি জেলার জনসাধারণ খুব বেশি উপকৃত হবেন এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যে এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। শুধু ইরিগেশন নয়, সকল দিক বিবেচনায় জনস্বার্থে এই প্রজেক্টটি সারা বাংলাদেশের পানির প্রবাহ ভূগর্ভস্থ পানির লেভেল, মৎস চাষ এবং কৃষি প্রধান এলাকা হিসাবে সবদিকে আমরা কিভাবে সমন্বয় করতে পারি সেই দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ছাড়াও তিস্তা প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রজেক্টটি নিয়েও প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতিমধ্যে চলছে। আরো বেশি স্টাডি করতে হবে। কারিগরি দিক, সমীক্ষা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা কি বেনিফিট দিয়ে ওই এলাকার মানুষ, দেশবাসীকে আমরা সম্পৃক্ত করব সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন। সেখানে অনেকগুলা কর্মসূচির মধ্যে খাল খনন কর্মসূচিও থাকছে এবং সেখানে তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছর সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে কয়েকটা জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মাননীয় মন্ত্রী এমপি সাহেবরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়তোবা আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ করতে পারবো। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি আমরা কন্টিনিউ করব।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুইটা জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে খাল-খনন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পসহ শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা যাতে জমিতে সেচের সুবিধা পায়, সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর