সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা কৃত্রিম প্রজনন কর্মী অনিমেষ পরমান্যকে উদ্ধার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।
সোমবার (৪ মে) শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন বাজার থেকে অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমাননের নেতৃত্বে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মুখে জলদস্যুরা অনিমেষকে সুন্দরবন থেকে মরাগাঙ নদীর পাড়ে রেখে যায়।
শ্যামনগর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের কৃত্রিম প্রজনন কর্মী অনিমেষ পরমান্য উপজেলার বৈশখালী গ্রামের মৃত নিতাই পরমান্যের ছেলে।
অনিমেষ পরমান্য জানান, তার প্রতিবেশী আশরাফ হোসেনের ফুফাত ভাই তার গরুর চিকিৎসা দেওয়ার জন্য শনিবার সকালে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় সুন্দরবন বাজারে। পরবর্তীতে গরু না দেখিয়ে আগে সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বনের মধ্যে নিয়ে তাকে জিম্মি করে।
তিনি আরও জানান, ২ দিন ধরে তাকে বনের মধ্যে থাকা নৌকায় আটকে রাখা হয়। খাবার খাওয়ার সময় ছাড়া সারাক্ষণ হাত বেঁধে রাখা থাকতো। তাকে জিম্মি করে তার মোবাইল থেকে কল করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে দেরি করার জন্য পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কারনে আটক অবস্থায় তাকে গরাণের লাঠি দিয়ে মারধর করা হতো।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, অনিমেষ পরমান্য অপহরণের পর তার ইউনিয়ন কর্মীরা আতংকে ভুগছে। এখন জরুরি প্রয়োজনেও রাতে তারা সীমান্ত বা সুন্দরবন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে যেতে রাজি হচ্ছে না। অনিমেষকে জিম্মি করার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, শনিবার (২ মে) রাতে অভিযোগ পেয়ে তারা অভিযানে নামে। রোববার (৩ মে) রাতে তিনটি টিম নিয়ে পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে চাপ সৃষ্টির একপর্যায়ে সকালে সুন্দরবন থেকে তাকে ডাঙায় তুলে দেওয়া হয়। অনিমেষকে জিম্মি করার সঙ্গে জড়িত মাহমুদুল হাসান ডন, আব্দুল জব্বার ও শাহিনুর রহমান নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন ২০১৭ ডালে আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যু ডন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিল।