Saturday 09 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পাঁচ ব্যাংক ‘একীভূত’ই থাকছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ মে ২০২৬ ১৮:৪৬ | আপডেট: ৩ মে ২০২৬ ২০:১৪

ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক আপাতত পৃথক করা হচ্ছে না। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সরকার এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, একীভূত হওয়ার পর ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অবস্থায় এখনই একীভূত কাঠামো ভেঙে পৃথক ব্যাংকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, একীভূত অবস্থায় পরিচালনার ফলে ব্যয় সাশ্রয়, সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ সুরক্ষায়ও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই কাঠামোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সুশাসন নিশ্চিত করা, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আর্থিক দুর্বলতায় পড়া কিছু বেসরকারি ব্যাংক পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভিন্নধর্মী কৌশল নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগকারী আনার পরিকল্পনা থাকলেও, আগে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের ক্ষেত্রে আপাতত সেই কাঠামো অপরিবর্তিত রাখার দিকেই ঝুঁকছেন নীতিনির্ধারকরা।

সূত্রগুলোর মতে, এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একীভূত অবস্থাই বর্তমানে বেশি কার্যকর। ফলে স্বল্পমেয়াদে মালিকানা পৃথকীকরণ বা পুনরায় বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের সম্ভাবনা সীমিত।

তবে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্বল করপোরেট সুশাসন ও ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চাপে থাকা কিছু ব্যাংক পুনর্গঠনে নতুন উদ্যোক্তা আনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, সুনাম এবং নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। আস্থা সংকট কাটাতে হলে স্বচ্ছ ও সক্ষম উদ্যোক্তাদের হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া এবং দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একীভূত ব্যাংকগুলোর মালিকানা স্থায়ীভাবে সরকারের হাতে রাখার পরিকল্পনা নেই। তবে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের আগে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী না পাওয়া পর্যন্ত একীভূত কাঠামো বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, পাঁচ ব্যাংকের কাঠামো পরিবর্তনের মতো কোনো প্রক্রিয়া বর্তমানে শুরু হয়নি। কিছু আবেদন এলেও পরিস্থিতি এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি জানান, সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় এনে আমানতকারীদের সুরক্ষা ও ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আগের উদ্যোক্তারা চাইলে নির্ধারিত শর্ত—যেমন সাড়ে ৭ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট—পূরণ করে পুনরায় মালিকানায় ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে কেবল অর্থ জমা দিলেই মালিকানা ফিরে পাওয়া যাবে না; বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ মিলবে।

সামগ্রিকভাবে, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একদিকে নতুন বিনিয়োগকারী আনার উদ্যোগ, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে একীভূত কাঠামো ধরে রাখার কৌশল—এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ কৌশল সফল হলে ভবিষ্যতে দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর