ঢাকা: চিকিৎসার অভাবে পাঁচ মাস আগে মৃত্যু বরণ করেছেন ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’-এর আমানতকারি একেএম আনসার উদ্দিন। তার হিসাবে ১৬ লাখ টাকা জমা থাকা সত্তেও চিকিৎসা হয়নি তার। ধুমধাম করে দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়ে হয়নি। বরং মর্যাদর জলাঞ্জলি দিয়ৈ বিদায় দিতে হয়েছে গরিবানা হালে। এখন এক পুত্র সন্তান নিয়ে সাংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে আনসার উদ্দিনের স্ত্রী আক্তারি বেগমের। কথাগুলো বলতে বলতে অঝরে কেঁদে ফেলেছেন তিনি। বলেন, এখন আমি কী করব এবং কোথায় যাবো জানি না। আমি শুধু আমার স্বামীর জমানো টাকা ফেরত চাই। এমন পরিস্থিতির শিকার শত শত আমানতকারী। এমতাবস্থায় আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন এ ধরনের ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘এলায়েন্স অব ৬ এনবিএফআই ডিপোজিটরস ফর রিকভারি এর দাবি’ শীর্ষক ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার আমানতকরীর পক্ষে অধ্যাপক নাশিদ কামাল বলেন, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ফার্স ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের আমানতকারীদের জোট এই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দুই হাজারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন এনবিএফআই-এর আমানতকারীরা অব্যবস্থাপনা, দুর্বল সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্যাংক খাতে সংস্কার, আমানত সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালু হলেও এনবিএফআই খাতে একই ধরনের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সংম্মলেনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমানতকারী ব্যাংকে হোক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। উভয় ক্ষেত্রেই তাদের অধিকার সমান। তাই ব্যাংক খাতের মতো এনবিএফআই খাতেও সমান সুরক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে প্রণীত যেকোনো আইন, অধ্যাদেশ বা সংস্কার দ্রুত এনবিএফআই খাতেও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।
আরো বলা হয়, জোটের পক্ষ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে আমানত ফেরতের একটি সুস্পষ্ট, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রে অবিলম্বে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, লিকুইডেশন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এছাড়া আর্থিক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা। তারা মনে করেন, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই খাতে আস্থা ফিরবে না।
লিখিত বক্তব্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।