Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জান্নাতে যেতে হলে জামায়াতের সঙ্গে থাকতে হবে? — শামারুহ মির্জা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৮

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের জান্নাতের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দলটির একাধিক নেতা এর আগেও বক্তব্য দিয়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন। সর্বশেষ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একটি সমাবেশে জামায়াতপন্থি আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরকে সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে জান্নাতের প্রলোভন দিতে শোনা যায়। যদিও এ বিষয়ে ভিডিওটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

জামায়াত নেতাদের এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা শামারুহ মির্জা। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টিকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

বিজ্ঞাপন

শামারুহ মির্জা তার পোস্টে লেখেন, ‘আমি খুবই নগণ্য মানুষ, চেষ্টা করি ইসলামকে বোঝার, আল্লাহ জানে। তবে জামায়াতে ইসলামের এই নেতার, এই কথা যদি ইসলাম বিরোধী না হয়, তাহলে আমার আর কিছুই বলার নাই। জান্নাতে যেতে হলে জাময়াতে ইসলামীর সঙ্গে থাকতে হবে? আল্লাহ মাফ করুক।’

উল্লেখ্য, ভোটের মাঠে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটার আকৃষ্ট করার অভিযোগ নতুন নয়-জামায়াতে ইসলামী নেতাদের বিরুদ্ধে। এর আগে দলটির বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে ‘জান্নাতের টিকিট’ কিংবা আখিরাতের সফলতার সঙ্গে দলীয় প্রতীকের সম্পর্ক টেনে আনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাসখানেক আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক সমাবেশে বলেন, ‘জামায়াত কখনও মানুষের কাছে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে না। মহান আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য পবিত্র কুরআনুল কারীম পাঠিয়েছেন। কুরআনে কোন কাজ করা উচিত আর কোন কাজ বর্জন করতে হবে—তা বলা হয়েছে। আমরা শুধু সেই কথাগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরি। বিরোধীরা কুরআন না বোঝার কারণে এ ধরনের কথা বলে।’

এর আগে জামায়াত নেতা শাহরিয়ার কবিরও দলীয় প্রতীকের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয় জড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘হাশরের ময়দানে ধানের শীষ থাকবে না, নৌকা থাকবে না, লাঙ্গলও থাকবে না—থাকবে মিজান। আমরা এমন প্রতীক নিয়ে কাজ করি, যা দুনিয়াতেও থাকবে, আখেরাতেও থাকবে।’ এ বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এছাড়া কুতুবদিয়া ছমিদিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু মুসা, নোয়াখালী-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহসহ আরও কয়েকজন নেতার বক্তব্যেও জান্নাতের টিকিট প্রসঙ্গ উঠে আসে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এসব বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে ধর্মীয় বিশ্বাসকে ভোটের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর