Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ব্যক্তি, রাজনীতি ও দলগত স্বার্থে সংস্কৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৯

চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।

রাজবাড়ী: সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব জনসাধারণের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে ভূমিকা রাখা হলেও অতীতে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘মূলত ব্যক্তি, রাজনীতি ও দলগত স্বার্থে সংস্কৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজবাড়ী শিল্পকলা একাডেমিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘আমাদের দেশের সংস্কৃতির একটি নিজস্ব ও স্বাধীন অস্তিত্ব রয়েছে। ফলে এটি তার নিজস্ব অবয়ব ও অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়েই গড়ে উঠবে। দেশীয় সংস্কৃতিকে বিকশিত ও জনবান্ধব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্র যেমন, শিল্পকলা, লাইব্রেরি, জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ যা কিছু আছে, সবকিছুকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি বলতে যা বোঝায়, তা বাস্তবে রূপ দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রথমত, আমরা নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। এর আওতায় বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপা‌শি সংস্কৃতির প্রসারে যে সকল অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং প্রশিক্ষণ, নিয়মিত প্র্যাকটিস ও অনুশীলনের মাধ্যমে শিল্পের প্রতিটি সেক্টরকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি আমি চীন সফর করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমাদের দেশে শিল্প-সাহিত্যের যে মেধা ও উপাদান রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়। আমাদের মূল সমস্যা হলো এখানে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিয়মিত শিল্পের চর্চা নেই। অথচ নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখে চীন তাদের সংস্কৃতিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। চীন সফর থেকে আমরা যে সব আইডিয়া ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলো দেশে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলা শিল্প সাহিত্যের শহর। এখানে আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি, অ্যাক্রোবেটিক সেন্টার, কালচারাল সেন্টার এবং নতুন জাদুঘর স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে আসবে।’

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বরেণ্য এই শিল্পীর সৃজনশীলতার ছাপ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি শুধু রাজবাড়ীর নন, সমগ্র দেশের গর্ব। এমন একজন ক্ষণজন্মা গুণী মানুষের জন্ম রাজবাড়ীতে হওয়ায় জেলার মানুষ গর্বিত। তিনি বেঁচে থাকলে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হতো। একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুনসুর উল করিমের জন্মবার্ষিকীতে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’

এর আগে, বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এ সময় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক খোকন মাহমুদ, সদস্যসচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু ও নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর