রাজশাহী: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে এবং নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের একটি ভোটেও হাত দিলে সেই হাত থাকবে না।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৯টায় রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, ‘রাজশাহী শহর ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম রণক্ষেত্র। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের দুই বছর অতিক্রম হলেও আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাইনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার সাড়ে চার মাস অতিক্রম করেছে। এখানে আমরা একশটি ভুল ধরতে পারব। সাড়ে চার মাসে বিএনপি ৭০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ব্যাংক খাতে কাদের বসানো হয়েছে, তা আপনারা সবাই জানেন। আবারও সব সেক্টরে স্বজনপ্রীতি চালু হয়েছে। খাল খননের নামে নেতাকর্মীরা যেভাবে লুটপাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে যেভাবে মাথা নত করিনি, আগামীতে পুরোনো কোনো বন্দোবস্তের কাছেও মাথা নত করব না। বিএনপি যে নীতিতে চলছে, তাতে আগের থেকে আলাদা কিছু দেখছি না। আলাদা শুধু এটুকুই, আগে ছিলেন নারী প্রধানমন্ত্রী, এখন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ধানের শীষে ভোট না দেওয়ায় অনেকে ফ্যামিলি কার্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিএনপি কি ধানের শীষের সরকার, নাকি পুরো বাংলাদেশের সরকার?’
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মোজাহিদ বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার বলছে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু আমরা মনে করি, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন মানে আওয়ামী লীগের কায়দা ফিরে না আসা। জুলাই বাস্তবায়ন মানে সচিবালয় থেকে শুরু করে এস আলমের মতো দুর্নীতি ফিরে না আসা। বিএনপির ভাইয়েরা মুখে মুখেই জুলাই চেতনাকে ধারণ করেন। তারা বাংলাদেশে জুলাই চেতনাকে নস্যাৎ করার পাঁয়তারা করছেন। বিএনপি সরকারকে অনুরোধ করব, আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে জুলাই চেতনাকে অস্বীকার করা। আমরা আর হাসিনা যুগের বাংলাদেশ দেখতে চাই না।’
রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারাও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ১১-দলীয় ঐক্য তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এই নির্বাচন মেনে নিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হতেই বিএনপি জুলাইকে ছুড়ে ফেলেছে। তারা জুলাই সনদকে অস্বীকার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে রাজশাহী শহরকে সর্বপ্রথম দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রথম লক্ষ্য। রাজশাহী শহরে কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি চেয়েছিলাম, কিন্তু তারেক রহমান সরকার সব সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসিয়ে আগেই পরিচয় করিয়ে রেখেছে। আমরা চেষ্টা করব বিশ্বের দরবারে রাজশাহীকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে।’
সদস্য সচিব আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারী শক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয়, রাজশাহী জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে রাজশাহীর আলুপট্টি থেকে পদযাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা।