Wednesday 27 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিবিরের কমিটি গঠন ঘিরে উত্তেজনা, জেলা শিবিরের নেতারা অবরুদ্ধ

ডিস্টিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ মে ২০২৬ ২১:৪৩

ঘটনার সময়কার একটি মুহূর্ত।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হট্টগোল ও জেলা শিবিরের নেতাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে কয়েক ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে দেবহাটায় ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠনের সময় সখিপুর মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রশিবিরের দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ শাখার সভাপতিকে মূলতবি করাকে কেন্দ্র করে উত্তর ও দক্ষিণ শাখার কয়েকজন নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে শিবিরের জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় নতুন কমিটি গঠনের জন্য জেলা শিবিরের সেক্রেটারি, জেলা অর্থ সম্পাদক ও মাদ্রাসাবিষয়ক সম্পাদক সেখানে যান। এ সময় নেতাকর্মীদের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েক দফায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তখন সেখানে যান মাহবুবুল আলম ও মোস্তফা আসাদুজ্জামান মুকুল এবং দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হকসহ আরও কয়েকজন। তবে প্রথমদিকে তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম। পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরুদ্ধ শিবির নেতারা সেখান থেকে বের হয়ে যান।

শিবিরের উত্তর দেবহাটা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের শাখার ১০ জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম। জেলা কমিটি আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই তা গ্রহণ করেছে। পরে বুধবার নতুন কমিটি গঠনের জন্য তারা আসে। জেলা সভাপতি নিজের খুশিমতো কাজ করছেন। আমরা জেলা সভাপতির পদত্যাগ চাই।’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘দেবহাটা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন স্বেচ্ছায় অভ্যন্তরীণভাবে কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়। পরে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের জন্য জেলা সেক্রেটারির নেতৃত্বে নেতারা সেখানে গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে অবরুদ্ধ নেতারা সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।’

দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, ‘বাৎসরিক সেটিং ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বর্তমান দায়িত্বশীলদের অনেকেই বাদ পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে তারা বাধা দিয়ে নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। এরপর অবরুদ্ধরা ফিরে গেছেন।’

দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা শিবিরের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এ নিয়ে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ঈদের পর বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর