ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। টানা ছুটিতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে বাড়ানো হয়েছে টিকিট বুথ, জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। এবার দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উন্মুক্ত করা হবে সাদা বাঘের তিন শাবকসহ বাঘ দম্পতি বেলি-টগরের চার শাবক ও একটি জিরাফ শাবক।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘এবার ঈদে নতুন কোনো প্রাণী আনা হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি জন্ম নেওয়া বাঘের চার শাবকের মধ্যে তিনটি সাদা বাঘের শাবক রয়েছে, যা অত্যন্ত বিরল প্রজাতির। এ ছাড়া একটি জিরাফ শাবকও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সম্প্রতি জন্ম নেওয়া অজগর ও হরিণের বাচ্চাগুলোকেও বিশেষভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের লম্বা ছুটির সঙ্গে কালবৈশাখের শঙ্কা থাকলেও আমাদের প্রত্যাশা, এবারের ঈদেও বিগত বছরের মতো লাখো দর্শনার্থীর সমাগম হবে।’
এদিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের চাপ সামাল দিতে প্রবেশপথে টিকিট বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মূল ফটকের সামনের এলাকা হকারমুক্ত করা হয়েছে। চিড়িয়াখানার ভেতরের রাস্তার সংস্কারকাজও শেষ হয়েছে। এমনকি নতুন করে ৩৫ জন জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবার চালু করা হয়েছে গলফ কার ও দক্ষিণ লেকে বোট রাইডিং। সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন স্থানে রং করা হয়েছে এবং নিষ্ক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধায় বিভিন্ন নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ডও বসানো হয়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আরও বলছে, ঈদের সময় প্রতিদিন ১-৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে। এ কারণে প্রবেশের জন্য ১৪টি বুথে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিংয়ের জন্যও থাকবে পৃথক বুথ। দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য ১৪টি লাইন চালু রাখা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের জন্য অস্থায়ী পানীয় ও খাবারের বিক্রয়কেন্দ্রও থাকবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকিট লাগবে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তার একজন সহকারীর জন্যও টিকিটের প্রয়োজন হবে না। অন্য দিনের মতো ঈদের সময়ও সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা।
ঈদের ছুটিতে নগরজীবনের ক্লান্তি থেকে খানিকটা স্বস্তি খুঁজে পেতে প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ভিড় করবেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়। নতুন অতিথি প্রাণী আর বাড়তি আয়োজন সেই আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলবে বলেই আশা কর্তৃপক্ষের।