ঢাকা: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে বলেছেন, সম্প্রতি নতুনধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আল্লাহপ্রদত্ত শরিয়াহ বিধান, ইসলামী মূল্যবোধ, পর্দা-বোরকা, হিজাব, দ্বীনি প্রতীক এবং ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি দেশের শীর্ষস্থানীয়, গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় উলামায়ে কেরামদের নিয়েও ন্যাক্কারজনক মন্তব্য করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমানি অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছেন।
সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, রাজধানী ঢাকায় আলোচিত শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং ঝিনাইদহে সংঘটিত আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার পর পুরো দেশ যখন শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কে স্তব্ধ, ঠিক সেই সময় কিছু ইসলামবিদ্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সাধারণ জনগণের আবেগকে ব্যবহার করে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান ‘হিজাব’ ও ‘পর্দা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার দাবি করা সময়ের ন্যায্য ও জোরালো দাবি হলেও, সেই ঘটনাকে পুঁজি করে কুরআনের সুস্পষ্ট বিধানকে কটাক্ষ করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কিংবা এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, শান্তা ফারজানার ইসলামবিদ্বেষী, উসকানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্যের কারণে তার রাজনৈতিক দল নতুনধারা বাংলাদেশকেও সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। দলটির উচিত অবিলম্বে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীয় অবস্থান তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, ওই নারীর ইসলামবিদ্বেষী, উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্যের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। তার পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে এবং কোন গোষ্ঠী বা চক্র তাকে ব্যবহার করছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, আল্লাহ তা’আলা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স), কুরআন-সুন্নাহ, ইসলামী বিধান ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহ নিয়ে কটাক্ষ, অবমাননা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে কঠোর আইন পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দুঃসাহস দেখাতে না পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ, ইসলামবিদ্বেষী কনটেন্ট এবং উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধে কার্যকর মনিটরিং সেল গঠন করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান তারা।
এ ছাড়াও হেফাজতে ইসলামীর প্রবীণ নেতারা দেশবাসী, তৌহিদী জনতা ও সর্বস্তরের ইসলামপ্রিয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ইসলামবিদ্বেষী সকল অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।