সিরাজগঞ্জ: পৃথক দুটি মাদক মামলায় শরিফুল ইসলাম বুলেন ও সোহেল রানা সুমন নামে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দু’টি মামলাতেই একই ধরনের সাজা ঘোষণা করা হয়।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লাইলা শারমিন পৃথক মামলার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মালশাপাড়া মহল্লার আব্দুল হাকিমের ছেলে। অপর আসামি সোহেল রানা সুমন রংপুর জেলার কোতয়ালি থানার উত্তর বাবু খাঁ গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে।
জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামচুজ্জোহা শাহানশাহ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পৃথক দুটি মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ মার্চ সিরাজগঞ্জ শহরের ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। ওই সময় মালশাপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে আটটি ইয়াবা ও ২৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই ফারুক সরকার বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেন।
অন্যদিকে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়কে মাদকবিরোধী চেকপোস্ট বসায়। রাতে রংপুর থেকে ঢাকাগামী ডিপজল পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রী সোহেল রানা সুমনের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৬০ পিচ নিষিদ্ধ ভারতীয় তৈরি চেতনানাশক ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের এসআই মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন।
পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রোববার দুই মামলার পৃথক রায় ঘোষণা করেন।