ঢাকা: প্রার্থিতা ফিরে পেতে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান।
মনোনয়ন বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের ৩ বছর পার না হওয়ার যে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা বলা হচ্ছে, তা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’
তিনি জানান, তিনি কৃষি ব্যাংকের একটি দশম গ্রেডের পদে কর্মরত ছিলেন এবং ওই পদের ধরন অনুযায়ী এই নির্বাচনি আইনটি তার জন্য কার্যকর হওয়া উচিত নয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালে কৃষি ব্যাংকে যোগদান করেছিলেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে যুক্ত হন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরি ছাড়ার ৩ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা আপাতত অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে একই জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর আবেদন জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও গৃহীত হয়নি।
বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজনের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। মনিরা শারমিনের আপিল যদি সফল না হয়, তবে জামায়াত জোটের জন্য বরাদ্দকৃত ১৩টি আসনের একটি আসন কমে যাবে। সেক্ষেত্রে আসনটি সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়লে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সেটি বিএনপি জোটের অনুকূলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল আপিল করা যাবে এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিল সেই আপিলের নিষ্পত্তি হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।