Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘নেতাদের নিজ দলের নারী সহকর্মীদের প্রতি উদার-সহনশীল হতে হবে’

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪৭

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিজ দলের নারী সহকর্মীদের প্রতি উদার ও সহনশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়: জুলাই কন্যাদের অবদান এবং করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘জুলাই কন্যারা এই আন্দোলনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। তারা মাঠে-রাজপথে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছে, ভবিষ্যতের রাষ্ট্র গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আগামী দিনে নারীদের নেতৃত্ব গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হলেও আমি অবাক হব না।’

বিজ্ঞাপন

সামান্তা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটা শান্তির অবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন অসহযোগিতা দেখতে পেলাম। সেটাকে ব্যাবহার করে সরকারি দল ও বিরোধীদলের এক ধরনের রাজনীতিকরণের প্রকল্প দেখতে পেলাম।’

ঐক্যমত্য কমিশন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ঐক্যমত্য কমিশন। এই কমিশন হলো গণপরিষদ বিতর্কের একটি ধরণ। যে বিতর্ক আপনাদের পার্লামেন্টে দেখার কথা, সেটার একটা ট্রেলার আপনারা এই কমিশনে দেখতে পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কেন নারীদের রাজনীতি দিনের পর দিন কঠিন হচ্ছে এবং অংশগ্রহণ দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। আমাদের দেশে এমনও জনপ্রিয় দল আছে যারা নারীদের সঙ্গে বসতেই রাজি হচ্ছে না। আমরা এমন সময়ে এসে রাজনীতি করছি, এখনো শুনতে হয় যে, নারীদের নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেকে তা অ্যাপ্রিশিয়েটও করছে। রাজনীতি যদি এমন হয় যে, আপনি যত বেশি টাকা ও শক্তি প্রদর্শন করতে পারবেন আপনি তত এগিয়ে থাকবেন, তখন নারীকে পিছিয়ে রাখা হয়।’

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের অর্জন টিকিয়ে রাখতে হলে সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি।’ সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘জুলাই কন্যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছে। কিন্তু, রাষ্ট্র তাদের আকাঙ্ক্ষার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে এবং দখলদার রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।’

সামিয়া মাসুদ মম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এখন পুরনো বন্দোবস্তের আদলে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করে শিক্ষার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং নিরাপদ, সহাবস্থানের ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে।’

জুলাইয়ে আলোচিত নীলা আফরোজ বলেন, ‘জুলাই কন্যাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা শুধু স্বীকৃতিই নয়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, ‘জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের স্বীকৃতি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।’

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর