Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৮ মাস দেশে থাকার পর সরকারি লোকজনই আমাকে পালাতে সহায়তা করেছে: মোমেন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫২ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩৪

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

ঢাকা: গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের অন্যান্য মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে যান। এরপর দেশের ভেতরেই আট মাসের মতো থাকেন। ধরা পড়ার ভয়, নিরাপত্তার কারণে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল সিম পরিবর্তন করেছেন ছয়বার। চেহারাতেও এনেছেন বড় ধরনের পরিবর্তন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কীভাবে দেশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। সব বলা সম্ভব নয়, এখনও সময় আসেনি। তবে সত্যি বলতে, সরকারি লোকজনই আমাকে সাহায্য করেছে।’

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র্রে থাকা এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় কথা বলেন। ওই ইন্টারভিউতে ড. মোমেন বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেন। আর তিনি আসার পরপরই গণ-অভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এটা এক ধরনের সিনেমার মতো। একটা সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি, কাউকে জেলে পাঠাইনি, চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। তাই ভেবেছিলাম, আমি কেন পালাব?’

ড. মোমেন আরও বলেন, ‘‘কিন্তু যখন কর্নেল সাব ফোন করে বললেন, ‘স্যার, আমরা আপনাকে রক্ষা করব’, স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান। এখান থেকে চলে যান। তখন বাধ্য হয়ে পালাতে হলো।”

তিনি বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাইনি। সব আত্মীয় স্বজন পাবলিকলি পরিচিত। তাই আমি অন্যদের ভাড়া বাসায় ছিলাম। এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর বাসায় থেকে কিছুটা নিরাপদ ছিলাম। বাসা সুন্দরভাবে রাখতেন, তাই আমি সেখানে থাকতে পারতাম। দেশে কেউ আসে না, ঢাকায় মানুষও ভয় পায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি নিরাপদভাবে থাকতে পেরেছিলাম।’

পালানোর সময় চেহারা পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম যাতে কেউ চিনতে না পারে। এক বাসায় গেলাম সার্টেন টাইমে। ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে পারে না কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি।’

ড. মোমেন আরও বলেন, ‘সি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট। দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্‌ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।’

কথা শেষ করে ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশ যেন জঙ্গি দেশ না হয়, সেজন্য সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে।’