ঢাকা: ২০০৯ সাল থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়া সাধারণ সৈনিকদের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সেইসঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহাল, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন-ভাতা, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং মামলাসহ হয়রানিমূলক কার্যক্রম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ‘অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের’ পক্ষে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত সার্জেন্ট মো. পলাশ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘শত শত সাধারণ সৈনিককে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, অনেককে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সামরিক বিচারব্যবস্থার একতরফা কাঠামোর কারণে অভিযুক্ত সৈনিকরা অনেক ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ পান না। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন সাধারণ সৈনিকরা। এ ধরনের বিচারপ্রক্রিয়া সংবিধানসম্মত ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থি।’
পলাশ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু একই ধরনের অভিযোগে চাকরিচ্যুত প্রায় ৪৫০ জন সাধারণ সৈনিকের জন্য এখনো কোনো স্বাধীন পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠন করা হয়নি। এতে পদমর্যাদার ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সৈনিকদের, কর্মকর্তাদের মতো একই নীতিতে সম্মানজনকভাবে পুনর্বহাল, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন-ভাতা ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ সব সামরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সাধারণ সৈনিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ২০০৯ সাল থেকে ৪ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সংঘটিত চাকরিচ্যুতির ঘটনাগুলো তদন্ত ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত বা পুনর্বিবেচনা বোর্ড গঠন করা।’
কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি ও আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংবিধান ও আইনসম্মত উপায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে।’