Tuesday 14 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪১ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৫

বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

ঢাকা: দেশের বিভিন্ন জেলায় অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যার প্রথম দিন থেকেই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাপের কামড়, পানিবাহিত রোগ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরকার সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে প্রতিদিন ভার্চুয়ালি সমন্বয় সভা করা হচ্ছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাপে কাটা কোনো রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা যায়নি।’

তিনি জানান, বন্যাপ্রবণ এলাকায় ইতোমধ্যে ২১ হাজার অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে আরও এক হাজার ভায়াল সংরক্ষণ করা হয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে আনা গেলে কোনো রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যার পর পানিবাহিত রোগ বিশেষ করে কলেরা প্রতিরোধে ৭ লাখ ২৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাছে আরও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি ট্যাবলেট মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত সরবরাহ করা হবে।’

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য ডায়রিয়া ও কলেরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ খাবার স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ নরমাল স্যালাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এসব চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রসবব্যথা বা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত স্পিডবোট কিংবা স্থানীয় নৌকার মাধ্যমে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এ খাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’

মন্ত্রী জানান, সাতকানিয়া হাসপাতালে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে পানি কমে যাওয়ায় সেখানে আবার স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসাসেবা চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা না দিলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় রাখা হয়েছে, যাতে নারী, শিশু ও বন্যাদুর্গত সব মানুষ দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর