ঢাকা: যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে অনুষ্ঠিত ‘দ্য স্টুডেন্ট-লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব পোস্ট-রেভল্যুশনারি বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রভাব এবং পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন তারা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এক পক্ষের দাবি, এটি ছিল অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে আয়োজিত একটি কর্মসূচি। অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক কায়েমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল অক্সফোর্ড ইউনিয়ন।
এ বিতর্কের মধ্যেই সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় সাদিক কায়েমের নামে পাঠানো অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণপত্র ও ভিসা-সংক্রান্ত দুটি চিঠি। চিঠিগুলোতে তার যুক্তরাজ্য সফর, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ভিসা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি আরওয়া হানিন এলরায়েসের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লব ও গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন’ বিষয়ক বিশেষ প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার জন্য সাদিক কায়েমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত ১১ মে’র পরিবর্তে অনুষ্ঠানটির তারিখ পরিবর্তন করে ১৪ জুন নির্ধারণ করা হয় এবং নতুন তারিখে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে তার যুক্তরাজ্যে অবস্থানের অনুমতি চাওয়া হয়।
অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির কনসালটেটিভ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যারন জেলেকের স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে সাদিক কায়েমকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি জুলাই বিপ্লব বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
আমন্ত্রণপত্রে সাদিক কায়েমকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ ও কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন কর্মসূচি সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তার সফরটি সম্পূর্ণ একাডেমিক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং সফর শেষে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুতে তার দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি যৌথভাবে তার অংশগ্রহণের সমন্বয় করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।