ঢাকা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনে বিদ্যমান জাতীয় নীতিমালাগুলোকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তুলছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদী ভাঙনের মতো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ কার্যকর রয়েছে। বর্তমান সরকার এই পরিকল্পনাগুলোকে হালনাগাদ করার কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার (এসওডি) সংশোধন করা হচ্ছে এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি ও প্রযুক্তিগত গবেষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন, যা এই খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।’
বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রাণহানি কমাতে সরকার সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
তিনি আরও বলেন, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ ও বিশেষ মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনি কাম বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তাল গাছ রোপণের মতো প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দুর্যোগ মোকাবিলায় এসব প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।