Friday 05 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কাঁচাবাজারে ক্রেতা কম, বেড়েছে মুরগি-চালের দাম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২৬ ১৭:১৯ | আপডেট: ৫ জুন ২০২৬ ১৮:১৫

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির এখনও রাজধানীতে ফিরে আসেনি চিরপরিচিত রুপ। সেই কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাজারও খুব বেশি জমেনি। সবখানেই ক্রেতার সংখ্যা কম। যেখানে কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য স্থানে মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। সেখানে ক্রেতাদের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। ক্রেতা কম থাকায় কিছু সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মুরগি ও চালের দাম। সরবরাহ কম থাকার কথা বলে বিক্রেতারা বেশি দাম হাকাচ্ছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রাজধানীর বাসাবো এবং মুগদা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাসাবো কাঁচাবাজারে সকাল থেকে বাজারে বিক্রেতারা দোকান খুলে বেচাকেনা শুরু করলেও অন্যান্য শুক্রবারের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক পরিবার এখনও ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেনি। তাই বাজারে ভিড়ও কম।

বিজ্ঞাপন

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। পাকিস্তানি মুরগির কেজি ৩৫০ টাকা। তবে গরু ও খাসির মাংসের ঈদের আগের মতো ৮৫০ টাকা ও ১৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবারের মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাস ও তেলাপিয়া মাছ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই মাছের কেজি ২২০ টাকা। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। শিং মাছের কেজি ৩২০ টাকা এবং মৃগেল মাছের কেজি ৩০০ টাকা।

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে বাদামি (ব্রাউন) ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায় এবং সাদা ডজন ডিমের দাম ১২০ টাকা। আগে এসব ডিম বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ১৪০ ও ১৩০ টাকায়।

সবজির বাজারে কচুমুখী প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা এবং করলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢেঁড়সের কেজি ৪০ টাকা এবং বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫০ টাকা, আর লাউ ৬০ টাকায়।

বাজারের মাছ বিক্রেতা আলমগীর বলেন, দুই দিন হলো দোকান খুলেছি। টুকটাক বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের আগের মতো ক্রেতা নেই। ঈদের আগে প্রয়োজনীয় বাজার করে রাখায় এখন অনেকেই সীমিত পরিমাণে কেনাকাটা করছেন। ফলে বাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম।

বাজারে আসা ক্রেতা সাদাত সরকার বলেন, ‘মুরগি কিনতে গিয়ে দেখলাম ঈদ যেতে না যেতেই কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ টাকা বেড়েছে। ঈদের একদিন পর এই মুরগির দাম ছিল ১৫০ টাকা কেজি। আবার দেখলাম ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে।’

অন্যদিকে চালের বাজারে প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, আগে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকায়, আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা।

মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, এলসি বন্ধ থাকায় ভারতীয় চালের আমদানি কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। ভারতীয় চাল আসা কমে গেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সেই কারণেই দাম একটু বাড়ছে।

চালের বাজারে এমন অস্থিরতার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে এখন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় নেমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর