Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টানা ৭ দিনের ঈদের ছুটি শুরু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৫ মে ২০২৬ ১০:১৮ | আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১১:০০

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষজন। ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: ইট-পাথরের যান্ত্রিক নগরী ঢাকা ফাঁকা করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। কারণ আজ সোমবার (২৫ মে) থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে টানা সাতদিনের ঈদের ছুটি। এবারের ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই দীর্ঘ অবকাশ যাপন করবেন। সেই হিসেবে গত রোববারই (২৪ মে) ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৮ মে ঈদের দিন ধরে সরকার আগে থেকেই ছয়দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত যেন যানজটমুক্ত ও নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটির মেয়াদ আরও একদিন বাড়িয়ে টানা সাতদিন করা হয়েছে। এই দীর্ঘ ছুটির বিনিময়ে অবশ্য সরকারি চাকরিজীবীদের গত শনিবার (২৩ মে) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি খাতা-কলমের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ মে ঈদের মূল ছুটির সঙ্গে ২৬ ও ২৭ মে এবং ঈদের পর ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচদিন নির্বাহী আদেশের ছুটি যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে মন্ত্রিসভার বিশেষ সিদ্ধান্তে আজ ২৫ মে-কেও সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করায় নাগরিক জীবনে যুক্ত হলো টানা এক সপ্তাহের এই মহাঅবকাশ। আগামী ১ জুন পুনরায় খুলবে সব সরকারি দফতর।

তবে এই উৎসবের আমেজ ও দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও দেশের জরুরি নাগরিক সেবাগুলো পুরোপুরি সচল থাকছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, স্থল ও সমুদ্র বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের মতো জরুরি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থেকে দিনরাত কাজ করে যাবেন।

একইভাবে দেশের সব হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার, নার্স এবং ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী যানবাহনগুলো সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। অন্যদিকে ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম কতটুকু সচল থাকবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট পৃথক নির্দেশনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি পোশাক খাতসহ বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির বিষয়টি দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদের এই দীর্ঘ ছুটি সাধারণ মানুষের জীবনে নিয়ে এসেছে এক চিলতে স্বস্তি ও বাঁধভাঙা আনন্দ। বছরের সমস্ত ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে প্রত্যেকে যেন তার পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছাতে পারেন এবং উৎসবের দিনগুলো সুখে কাটাতে পারেন, এটাই এখন পুরো জাতির প্রত্যাশা। সব কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে আগামী ১ জুন পর্যন্ত পুরো দেশ এখন মেতে থাকবে উৎসবের এক অনাবিল আনন্দে।

 

সারাবাংলা/এনএল/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর