Saturday 09 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আজ থেকে ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা: মামলা হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ মে ২০২৬ ১৪:১৮ | আপডেট: ৭ মে ২০২৬ ১৭:৪৩

সিসি ক্যামেরা।

ঢাকা: রাজধানীর গুরুত্বপুর্ণ সড়কগুলোতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি চালু হয়েছে। ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এখন আর সার্জেন্ট জরিমানা করবে না। এমনকি মামলাও দেবে না। সার্জেন্টের হাতের ইশারার প্রয়োজন নেই, ক্যামেরাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেবে গাড়ির মালিকের কাছে।

ডিএমপির ট্রাফিকবিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরেই এআই মনিটরিং চালু করা হবে। তাই এখন থেকে ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলাই একমাত্র নিরাপদ উপায় বলে করছি।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া মামলা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাফিক অফিসে গিয়ে জরিমানার টাকা জমা দিতে হবে। নাহলে আবার ফৌজদারি মামলা হবে। সেই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হবে এবং জেলেও যেতে হতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

যেভাবে কাজ করবে এই এআই সিস্টেম

আইন ভঙ্গের ভিডিও ও ছবি ধারণ করবে ক্যামেরা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ই-প্রসিকিউশন সিস্টেমের মাধ্যমে গাড়ি মালিকের ঠিকানায় বা মোবাইলে মামলার নোটিশ চলে যাবে।

ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ লাইন পার হওয়া, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ভুল জায়গায় পার্কিং, এবং ট্রাফিক লেনের আইন অমান্য করলে এই সিস্টেম ধরে ফেলবে।

শুধু আইন ভঙ্গ নয়, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, যেমন— ফিটনেস বা রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও এই ক্যামেরা শনাক্ত করতে সক্ষম। সাবধানতা যা অবলম্বন করা জরুরি: সিগন্যাল পড়লে থামুন, স্টপ লাইন পার হবেন না। সব সময় লেন মেনে গাড়ি চালান। উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন। নো পার্কিং জোন বা যেখানে সেখানে গাড়ি পার্ক করবেন না।

পুলিশের স্পেশাল বেঞ্চের সাবেক প্রধান গোলাম রসুল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘দিনের বেলা ট্রাফিক সার্জেন্টকে হয়তো অনুরোধ করা যায়, তার সঙ্গে ওর সঙ্গে কথা বলানো যায় বা হ্যাডম বেশি থাকলে মামু চাচার ভয় দেখানো যায় কিন্তু এই এআই ক্যামেরার কোনো মন নেই, মায়া নেই, দয়া নেই, সে ভয় পায় না। সে শুধু চেনে নিয়ম আর আপনার গাড়ির নম্বর।’

রাজধানীতে সর্বমোট ২৫টি সিগনালে এআই ক্যামেরা সক্রিয় করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে এই সিস্টেম চালু হবে।

শহরের যেসব জায়গায় বেশি নজরদারি চলছে: শাহবাগ, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, নীলক্ষেত, গুলশান, বনানী, দৈনিক বাংলা, কাকরাইল, শান্তিনগর, মগবাজারসহ আরও অনেক গুরুত্বপুর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা সক্রিয় হয়েছে।

এখন ক্যামেরা যা যা ধরছে: লাল বাতি অমান্য, জেব্রা ক্রসিং ব্লক, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া বাইক, অতিরিক্ত যাত্রী, সিত বেল্ট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা, অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যাবহার করা- এসব দেখলেই এআই সরাসরি মামলা করবে এবং ম্যাসেজ পাঠাবে।

জরিমানার হিসাব (Road Transport Act 2018 অনুযায়ী):

সিগন্যাল ভাঙলে: সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা
বেপরোয়া গতি: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত
হর্ন বা অন্যান্য আইন ভাঙা: নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা

নতুন যে বিষয়গুলো অনেকেই জানেন না: স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল (গাড়ির চাপ অনুযায়ী), পুশ-বাটন পেডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং- এগুলো অমান্য করলেও এখন মামলা হচ্ছে।

গাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: আপনার গাড়ি কে চালাচ্ছে খেয়াল রাখুন, রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের সাথে থাকা মোবাইল নাম্বার চালু রাখুন (BSP Portal এ গিয়ে মোবাইল নাম্বার আপডেট আছে কিনা দেখুন)। কারণ, সময়মতো মামলা না ভাঙ্গালে ওয়ারেন্ট বেরিয়ে যাবে গাড়ির মালিকের নামে। এরপর কোর্ট কাচারি হাঙ্গামা কত কিছু পোহাতে হতে পারে।

ড্রাইভার ভুল করলেও মামলা যাবে মালিকের নামে। আপনার গাড়ি নিজে চালান বা ড্রাইভার বা অন্যকেউ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট যাবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ কমিশনার ( ডিসি মিডিয়া) এসএম নাসিরুদ্দিন বলেন, কিছুদিন হলো ট্রাফিক সিগনালগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আজ থেকে ২৫টি সক্রিয় করা হয়েছে। আজ থেকেই সক্রিয় মামলা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা কারও ওপর জুলুমও করবে না আবার মাফও করবে না। কাজেই সবাই সাবধান হন। মামলা এড়াতে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন।

বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর