Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মূল্যস্ফীতি ফের ৯ শতাংশ ছাড়াল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ মে ২০২৬ ১৮:৫০ | আপডেট: ৬ মে ২০২৬ ২৩:৪৯

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশে মূল্যস্ফীতি ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সর্বশেষ এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। টানা কয়েক মাস ওঠানামার পর ফের মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

বুধবার (৬ ‌মে) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রধান কারণগুলোর একটি। গত ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায়, যা পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে প্রায় সবধরনের পণ্যের দাম বাড়ে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—সব জায়গাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গত দুই সপ্তাহে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
শাকসবজির দাম কেজিতে ১০–১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, মাছ ও মাংসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে।

এদিকে এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয় ও মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে না বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সংসার চালাতে বাড়ে চাপ। এতে ধার-দেনার ওপর নির্ভরতা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির হার কমে গেলেও বাজারে পণ্যের দাম কমে না। বরং আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমে—এটাই মূল্যস্ফীতি কমার প্রকৃত অর্থ।

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির ফের বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যয় আরও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর