ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (৫ মে) নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় থেকে এই গেজেট জারি করা হয়। এর মাধ্যমে সংসদের নির্ধারিত ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন পূর্ণ হলো।
নুসরাতন তাবাসসুমের নাম, ঠিকানাসহ গেজেট করা হয়েছে। এরপর প্রক্রিয়া অনুযায়ী শপথ আয়োজনের জন্য সংসদ সচিবালয়ে গেজেট পাঠানো হবে।
এর আগে, (৪ মে) নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ইসি।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর ৩ বছর অতিবাহিত না হওয়ায় জামায়াত জোটের এনসিপির আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরই তড়িঘড়ি করে গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বিকেল ৪টার বাজবার ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এরপরে নুসরাত আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই করে বৈধ ঘোষণা করে সংস্থাটি।
এরইমধ্যে প্রার্থীতা ফিরে পেতে মনিরা শারমিন আদালতে রিট করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় যে আদালতের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন নুসরাত গেজেট প্রকাশ করা না হয়। তবে সোমবার মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা ঐ রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বেঞ্চের এক বিচারপতি এবং রিট আবেদনকারী একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় রিটটি শুনানির জন্য অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মনিরাকে নিয়ে আদালতের ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না আসলে নুসরাতই হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ নম্বর সংসদ সংসদ সদস্য।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোট একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বন্টন করে দেয়। কিন্তু নুসরাত-মনিরার আসনটি ব্যতিত বাকি ৪৯টিতে ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরইমধ্যে তারা শপথ নিয়েছেন।