ঢাকা: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ড অর্থাৎ চট্টগ্রাম-২ ও ৪ সংসদীয় আসনের নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ এপ্রিল। এই দিন আদালত প্রার্থীদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন এবং আদালতের সেই নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই এ আসন দুটির গেজেট প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে তারা এখনো ফলাফল প্রকাশ করতে পারেননি এবং আদালত যেভাবে রায় দেবেন সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফটিকছড়ি বা চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি ভোট পান ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫টি, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিনের বাক্সে পড়ে ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নুরুল আমিন আদালতে মামলা করেন। এরপর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিজয় গেজেট আকারে প্রকাশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
অন্যদিকে সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রাম-৪ আসনের চিত্রও প্রায় একই। এখানে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান স্পষ্ট হলেও জামায়াত প্রার্থী এবং যমুনা ব্যাংক আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াই শুরু করে। হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বহাল রাখলেও আপিল বিভাগ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
আর আদালতের এই কড়া নির্দেশনার ফলেই নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের পর ফলাফল আটকে দিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছিল। এখন সবার নজর আগামী ২৮ এপ্রিলের শুনানির দিকে।