ঢাকা: বাংলাদেশে বসবাসরত উর্দুভাষী নাগরিকদের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের উর্দুভাষী নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন রাজধানীর পল্লবী থানাসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে উর্দুভাষী বাংলাদেশি নাগরিকরা বসবাস করছেন। যদিও তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো মহাপরিকল্পনা গৃহীত হয়নি, তবে সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি বলেন, বিস্তারিত ও সঠিক সমীক্ষা সম্পন্ন করার মাধ্যমে পল্লবী ও অন্যান্য এলাকায় ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষী নাগরিকদের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ক্যাম্পগুলোতে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিল সমস্যার সমাধানেও সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, উর্দুভাষী নাগরিকদের ক্যাম্পে ২০১৬ সালের পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। এই বিশাল বকেয়া পরিশোধের লক্ষে গত বছরের ২৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির প্রথম সভায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ থেকে পর্যায়ক্রমে এই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে পরিশোধের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উর্দুভাষী নাগরিকদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এই সদয় দৃষ্টিভঙ্গি সংসদ সদস্যদের দ্বারা প্রশংসিত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পুনর্বাসন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কয়েক দশকের পুরনো মানবিক সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।