ঢাকা: সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো ও হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
রোববার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সরকারের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। এর ফলে হাইকোর্টের আগের আদেশই বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন খায়রুল হকের আইনজীবীরা।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী মাহবুব শফিক ও মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।
খায়রুল হকের আইনজীবী মাহবুব শফিক বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ না দিয়ে সরকারের আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো বা হয়রানি করা যাবে না।
হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এরপর গত ১২ মে ওই দুই মামলাতেও হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এর আগে ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে আগের পাঁচ মামলায় পাওয়া তার জামিনও বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এতে তার কারামুক্তির পথ তৈরি হয়।
তবে নতুন কোনো মামলায় তাকে আবার গ্রেফতার দেখানো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক। শুনানি শেষে ১৭ মে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। ওই আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেফতার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে সরকার প্রথমে আবেদন করে। পরে আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়েও আবেদন করা হয়। রোববার এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন বলে জানান খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।
হাইকোর্টের ১৭ মে’র আদেশের পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলা এবং বনানী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার মামলা দুটিতে খায়রুল হক জামিন পেয়েছেন। এসব মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি নন। তবে বনানী থানার মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় জামিন পেলে তার কারামুক্তিতে আর বাধা থাকবে না।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বনানী থানার মামলায় জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও খায়রুল হক বিদেশ যেতে পারবেন না এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারবেন না—এমন নির্দেশনা আপিল বিভাগের আদেশে রয়েছে।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে কয়েক দফায় তিনি পুনর্নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ আগস্ট আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।