ঢাকা: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। শুনানিতে কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন। অন্যদিকে কয়েকজনের আইনজীবী অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী।
মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। পরে মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৯ এ অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে ছিল। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির স্বার্থে এটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইব্রাহীম খলিল বিপুল, মো. আব্দুস সবুর, মোছা. ছানোয়ারা খাতুন, মেহেদী হাসান আকাশ, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, কে এম রাশেদ, মোছা. মেরিনা খাতুন মেরি, সুশান্ত ভৌমিক, নিজাম বারী, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ আনিচুজ্জামান আনিচ, মো. আকরামুল আলম, মো. নুর উন নবী মণ্ডল দুলাল মাস্টার্স, মো. সাইফুল ইসলাম সর্দার, কাজী আবুল কালাম, মোছা. ফেন্সী, কে এম শাহ নেওয়াজ ওরফে শিবলু, রফিকুল ইসলাম, জিন্নাত সুলতানা ঝুমা, মেহেদী হাসান ঈশান ও জনি চন্দ্র সূত্রধর।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি অনলাইন জুম সভায় দেশ-বিদেশ থেকে ৫৭৭ জন অংশ নেন। সেখানে কথোপকথনে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত, গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং তার নির্দেশনা অনুসরণে অঙ্গীকারের বিষয় উঠে আসে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম ওই সভার হোস্ট ছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সভার ভয়েস রেকর্ড বিশ্লেষণে বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না দেওয়ার পরিকল্পনা এবং সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের আলামত পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে গত বছরের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং পরবর্তীতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, অ্যাডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ রুবিনা আক্তার ও পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।