চট্টগ্রাম: চার বছর আগে চট্টগ্রামে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবেশী আবীর আলীর ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে আয়াত হত্যা মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর রায়ের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী।
তিনি আরও বলেন, ‘আসামি আবীর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আলামত উদ্ধার ও সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে আরও বলা হয়, অর্থদণ্ড হিসেবে ১ লাখ টাকা অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার খণ্ডিত মরদেহ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি ও আয়াতের জুতা উদ্ধার করা হয়। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলি ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেট এলাকার একটি গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। ঘটনার পর আয়াতের বাবা ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তা আয়াতের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সি এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। অন্য আসামি কিশোর হওয়ায় তার বিচার চলছে শিশু আদালতে।