বাগেরহাট: পূর্ব সুন্দরবন থেকে অপহৃত হওয়ার তিনদিন পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন পাঁচ জেলে। মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে শরীফুল ইসলাম নামের একজন দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে বনদস্যুদের কবল থেকে ছাড়া পান তারা।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন—বাগেরহাটের বগা এলাকার হানিফ, জাকির, শাহিন, আকুব্বর এবং রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের শরীফুল ইসলাম (৩০)। এদের মধ্যে গুরুতর আহত শরীফুলকে সকালে বাগেরহাটের রামপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলেদের এক মহাজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেলেরা গত ১৪ জুন রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের অদূরে লইট্রাখালী এলাকায় খালে মাছ ধরছিলেন। ওই সময় বনদস্যু ‘ছোটো জাহাঙ্গীর বাহিনী’ জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দস্যুরা পাঁচটি ট্রলার থেকে পাঁচজন জেলেকে জিম্মি করে তাদের নিজেদের ট্রলারে তুলে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দেওয়ার পর সকালে দস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়। জিম্মি দশা চলাকালীন শরীফুল নামের এক জেলেকে দস্যুরা বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে।
রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব আল রশিদ এ বিষয়ে বলেন, ‘বনদস্যুদের মারধরে এক জেলের আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর জানতে পেরেছি।’
এছাড়া বনবিভাগের দুবলাচর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির একজনও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লইট্রাখালী এলাকায় জেলে অপহরণের বিষয়ে আমরাও শুনেছি। সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তা জোরদারে বন বিভাগের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’