ঢাকা: দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা। গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরের পর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে, নির্বাচন কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিএনপি। আর এর মধ্য দিয়েই অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে গেলো কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
এর আগে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি হিসেবে ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করেন।
এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিশ্চিতই বলা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলামই বিজয়ী হচ্ছেন। কারণ এ নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন সংসদ সদস্যরা। আর সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।
সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে বিএনপির মোট ভোটার ২৪৭ জন, ১১ দলীয় জোটের মোট ভোটার ১০২ জন। সে হিসেবে ১৯৯১ সালের পর নির্বাচন হতে যাওয়া দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। কারণ ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী এগিয়ে বিএনপি।
এদিকে, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্যের দলের বাইরে গিয়ে ভোট দেবার সুযোগ নেই। তাই রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনের এখন শুধু আইনি প্রক্রিয়াগুলোর আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ১৬ আগস্ট আর ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ভোট হবে ২০ আগস্ট।