Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪৫ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৫

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরের দিকে এ হামলা চালানো হয়।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ হয়েছে। এ ছাড়া এ হামলায় আহত হয়েছেন ৯১ জন।

শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এই হামলাকে কিয়েভের ওপর চালানো ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, হামলার শিকার হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিয়েভে এই হামলা চলে ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে। হামলাটি চালানো হয় কয়েক দফায়। প্রথমে কিয়েভের ঐতিহাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা করা হয়, যার ফলে শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি হোটেলে আগুন ধরে যায়।

এরপর ইউক্রেনের স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে রাত ৩টার দিকে আরও বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ড্রোনের দল একের পর এক রাজধানী লক্ষ্য করে আঘাত হানতে থাকে।

যদিও আগের হামলাগুলোতে আরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, তবে এই সর্বশেষ হামলায় রাজধানীর ওপর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এবং কিয়েভের অনেক বড় এলাকা জুড়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর হামলা শুরু হলে শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আহত বাসিন্দাকে সরিয়ে নিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী, চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারীরা। ছবি: রয়টার্স

তবে মস্কো দাবি করেছে, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে তারা কিয়েভের সামরিক কারখানায় এই হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, মস্কো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসামরিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তারা আরও বলেছে, আক্রমণকারী দেশ আর আত্মরক্ষাকারী দেশকে এক করে দেখা ভুল হবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাশিয়া ‘কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা বজায় রাখবে’।

কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, হতাহতদের একটি বড় অংশই শিশু। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আবারও জেনেশুনে আবাসিক এলাকাগুলোকে নিশানা করছে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে।’

কিয়েভের মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত রাতে ৪ হাজার ৫০০ শিশুসহ প্রায় ৫২ হাজার ৫০০ মানুষ মাটির নিচের স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সেখানে সর্বোচ্চ আশ্রয়ের রেকর্ড।

হামলার শিকার হওয়া স্থানগুলোর মধ্যে কিয়েভের দক্ষিণ-পূর্বের দারনিৎস্কি এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবন রয়েছে। সেখানে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন। ছবি: রয়টার্স

এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশে বিশাল গর্ত তৈরি করেছে। বিস্ফোরণের পর চারপাশের ভবনগুলো আগুনে পুড়ে গেছে এবং সেগুলোর লোহার বারান্দাগুলো দুমড়েমুচড়ে গেছে।

দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি সামান্য দূরে একটি নয়তলা আবাসিক ভবনের শেষ মাথায় আঘাত হানে। এতে ভবনটির সেই অংশটি ধসে কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পড়ে আছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ি ও জানালার ভাঙা কাচ। চারপাশের সবকিছুর ওপর জমে আছে ছাইয়ের ধূসর আস্তরণ। স্বজনদের কান্নার মাঝে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ইউক্রেনীয় রেড ক্রস জানিয়েছে, রাতের হামলায় তাদের একটি প্রধান গুদাম ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড (৭ কোটি ৯০ লাখ ইউক্রেনীয় রিভনিয়া) মূল্যের ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হওয়ার কারণে পুরো ইউক্রেনে তাদের জরুরি সাহায্য ও মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর