Thursday 16 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৮ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৭

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ইরানকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করতে নতুন করে হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলা বা স্থল অভিযানের পথও খোলা রাখা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে পাঠানো এই বাহিনীর মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ এবং এর পাহারায় থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোতে অবস্থানরত প্রায় ছয় হাজার সেনা রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং মেরিন কোরের টাস্কফোর্সসহ ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও ৪ হাজার ২০০ সদস্য চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে পৌঁছাবেন।

বর্তমানে ইরানে চলমান অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত রয়েছে, নতুন এই সদস্যরা তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে ২২ এপ্রিল ইরানের সাথে বিদ্যমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বিশাল সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করছে পেন্টাগন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে বাধ্য করা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা।

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে পারে। তিনি মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী পর্যায়ে নেমে আসবে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ না করে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের কঠোর বিকল্প ব্যবহারের পথ খোলা রেখেছে।

সারাবাংলা/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো