Tuesday 07 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশ্বকাপ ও প্রিয় দলের হারে নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৭ জুলাই ২০২৬ ১৬:২৩

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় কাঁপছে পুরো দেশ। মাঠে বল গড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, সবখানেই চলছে তুমুল আড্ডা আর তর্ক-বিতর্ক। ইতিমধ্যেই আসর থেকে বিদায় নিয়েছে অন্যতম ফেবারিট দল ব্রাজিল, যা তাদের কোটি কোটি সমর্থককে স্তব্ধ ও মর্মাহত করেছে। অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা এখনও টিকে রয়েছে বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে। প্রিয় দলের এমন জয়-পরাজয়ের সমীকরণে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই উন্মাদনা যখন রূপ নেয় অতি-আবেগ কিংবা বিষাদে, তখনই তৈরি হয় বিপত্তি। প্রিয় দল হেরে গেলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, আবার কেউ কেউ তীব্র রাগে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। প্রতিপক্ষের ট্রল বা উপহাস সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো চরম ও মর্মান্তিক পথ বেছে নেওয়ার ঘটনাও আমাদের সমাজে ঘটছে। খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য যেখানে আনন্দ ও বিনোদন, সেখানে এটি যেন কোনোভাবেই আপনার মানসিক বিপর্যয় বা জীবনের ঝুঁকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় দলের পরাজয়ের পর নিজেকে মানসিকভাবে শান্ত ও সুরক্ষিত রাখার কিছু জরুরি উপায় নিচে আলোচনা করা হলো।

বিজ্ঞাপন

পরাজয়কে খেলার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া

খেলাধুলায় জয় এবং পরাজয় থাকবেই এটিই চিরন্তন সত্য। মাঠের লড়াইয়ে যেকোনো এক পক্ষকে হারতেই হবে, তা সে যতই শক্তিশালী দল হোক না কেন।

বাস্তবতা স্বীকার করা: প্রিয় দল হেরে যাওয়ার পর প্রথম কাজ হলো আবেগ সামলে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এবং মনে রাখা যে এটি কেবলই একটি খেলা।

খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা: দল হারলে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক, তবে সেই হতাশাকে দীর্ঘস্থায়ী না করে পরবর্তী ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

খেলার সৌন্দর্যের প্রশংসা: নিজের দল হেরে গেলেও প্রতিপক্ষ যদি ভালো খেলে জয়ী হয়, তবে তাদের সেই ভালো খেলার প্রশংসা করার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন।

সামাজিক মাধ্যমের ট্রল ও কটূক্তি থেকে দূরে থাকা

আজকাল যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে দল হারলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল বা উপহাসের বন্যা বয়ে যায়। এই ধরনের বিদ্রূপ অনেক সময় মানসিক চাপের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ফেসবুক বা ইন্টারনেট থেকে সাময়িক বিরতি: প্রিয় দলের পরাজয়ের পর অন্তত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলা: কোনো পোস্টে আপনাকে উদ্দেশ্য করে ট্রল করা হলে সেটির উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

গ্রুপ চ্যাট বন্ধ রাখা: বন্ধুদের মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যদি অতিরিক্ত ট্রল করা হয়, তবে সাময়িকভাবে সেই গ্রুপগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ বা মিউট করে রাখুন।

রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ কমানো

প্রিয় দলের বিদায়ে অনেকের মনে তীব্র ক্ষোভ ও রাগের সৃষ্টি হয়, যা পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের ওপর গিয়ে পড়ে। এই রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মনোযোগ অন্য দিকে ঘোরানো: দল হেরে যাওয়ার সাথে সাথেই টিভি বন্ধ করে দিন এবং এমন কোনো কাজ করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয়, যেমন গান শোনা বা পছন্দের কোনো বই পড়া।

দীর্ঘশ্বাস নেওয়া: রাগের মাথায় কোনো মন্তব্য বা কাজ করার আগে কয়েকবার গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন।

শারীরিক চর্চা বা হাঁটাহাঁটি: অতিরিক্ত রাগ বা উত্তেজনা অনুভব করলে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে থেকে হেঁটে আসতে পারেন, এতে মনের ভেতরের ক্ষোভ ও অস্থিরতা অনেকটাই কমে আসবে।

চরম মানসিক বিপর্যয় ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত রোধ করা

খেলায় হার-জিতের জেরে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জীবন যেকোনো ফুটবল ম্যাচ বা কাপ জয়ের চেয়ে কোটি গুণ বেশি মূল্যবান।

জীবনের মূল্য অনুধাবন: মনে রাখবেন, আপনার প্রিয় দল বা প্রিয় তারকা ফুটবলার আপনার জীবনের এই চরম ক্ষতি সম্পর্কে জানতেও পারবেন না, কিন্তু আপনার পরিবার চিরদিনের জন্য নিঃস্ব হয়ে যাবে।

প্রিয়জনদের সাথে কথা বলা: দল হারার পর মনের ভেতর অতিরিক্ত কষ্ট বা বিষণ্ণতা জমা হলে তা চেপে না রেখে পরিবার বা বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন।

পেশাদার মানসিক সহায়তা: যদি পরাজয়ের গ্লানি কোনোভাবেই মাথা থেকে দূর না হয় এবং নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা জাগে, তবে কালবিলম্ব না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হোন।

খেলা শুধুই খেলা, জীবন সবার ওপরে

বিশ্বকাপ আসে চার বছর পর পর, কিন্তু জীবন একবারই আসে। মাঠের লড়াইয়ে প্রিয় দল হেরে যাওয়া মানেই জীবনের পরাজয় নয়। আজকে যে দল বিদায় নিয়েছে, আগামীতে তারাই আবার রাজত্ব করবে । এটাই ফুটবলের চিরন্তন নিয়ম। তাই ফুটবলকে ভালোবাসুন, খেলা উপভোগ করুন, কিন্তু একে নিজের মানসিক শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেবেন না। ট্রল বা উপহাস সাময়িক, কিন্তু আপনার জীবন এবং সুস্থতা আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য স্থায়ী সম্পদ। আসুন, জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করি এবং সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে খেলার আসল আনন্দ ছড়িয়ে দিই।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর