ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার পর পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর সংঘর্ষে কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার ভোরে কনস্যুলেটে হামলা চালানোর চেষ্টারত শত শত ইরানপন্থি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, করাচির সিভিল হাসপাতালে কমপক্ষে নয়টি মরদেহ আনা হয়েছে।
অনলাইনে শেয়ার করা এবং আল জাজিরার যাচাইকরা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একজন আহত ব্যক্তিকে পথচারীরা বহন করছে। অন্যান্য ছবিতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা শহরের মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের অন্যান্য অংশেও ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্কার্দুতে জাতিসংঘের একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। যা শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ গিলগিট বালতিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত।
স্থানীয় সরকারের মুখপাত্র শাব্বির মীর রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘গিলগিটে জাতিসংঘের অফিসের বাইরে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছে এবং ভবনটি পুড়িয়ে দিয়েছে।’
তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
লাহোরের শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়েছিল কিন্তু কোনও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আকিল রাজা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কিছু বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের শত শত গজ দূরে অবস্থিত নিরাপত্তা গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে, পুলিশ কোনও বলপ্রয়োগ ছাড়াই তাদের বাধা দেয়।
রোববার বিকেলে রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছেও একটি বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে।
খামেনির হত্যার প্রতিবাদে ইরাক, মরক্কো এবং ভারত-শাসিত কাশ্মীর সহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানপন্থি বিক্ষোভকারীরা ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে যেখানে মার্কিন দূতাবাস অবস্থিত তার বাইরে জড়ো হয়েছিল।