Saturday 11 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিসি টেলিসার্ভিসের প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি সই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ জুলাই ২০২৬ ২০:৩৭

চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি সইয়ে নেতৃত্ব দেন আইসিসি টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: উন্নত বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ উন্মোচিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি চীনের শীর্ষস্থানীয় একটি বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে আইসিসি টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের উপস্থিতি ও কর্মঘণ্টা নিরূপণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করবে।

সম্প্রতি চীনের ক্যান্টন ফেয়ারে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাথমিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বায়োমেট্রিক পণ্য ও প্রযুক্তি চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিষ্ঠানটির কারখানা, গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র এবং শো-রুম পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন- আইসিসি টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। সফরকালে তিনি চীনা প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি (নেক্সট জেনারেশন) চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলকে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা সমাধান দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা, ব্যবহার পদ্ধতি ও বিভিন্ন খাতের জন্য এর সম্ভাব্য প্রয়োগ তুলে ধরেন।

চীনা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলো প্রচলিত উপস্থিতি রেজিস্টার ও কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে দ্রুতগতির বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি গ্রহণ করায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পাঞ্চল, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসগুলোতে সমন্বিত নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সমাধানের চাহিদাও বাড়ছে।

তাদের মতে, তুলনামূলক কম ব্যয় ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি এখনো জনপ্রিয় থাকলেও অধিক নিরাপত্তা, অটোমেশন এবং ব্যবহারিক সুবিধার কারণে ফেসিয়াল রিকগনিশন ও মাল্টিমোডাল বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

প্রযুক্তিগত উপস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তরা বায়োমেট্রিক গবেষণা ও উৎপাদনে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা, নিজস্ব রিকগনিশন অ্যালগরিদম, ওপেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস এবং অরিজিনাল ইক্যুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অবকাঠামো সম্পর্কে চীনা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের জানান, দেশে বাংলা ও ইংরেজি ভাষাবান্ধব নিরাপত্তা প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, এবং দেশে বিদ্যমান সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আলোচনায় বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার স্থানীয়করণ, কাস্টমাইজেশন এবং সমন্বিত সমাধান তৈরির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতিনিধি দল মাল্টিমোডাল বায়োমেট্রিক টার্মিনালসহ একাধিক ফ্ল্যাগশিপ পণ্যের ব্যবহারিক পরীক্ষা চালায়। যেখানে ফেসিয়াল রিকগনিশন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি সমন্বিত এই ডিভাইসটির দ্রুত সাড়া, নির্ভুলতা এবং বহুমুখী ব্যবহারে সুযোগ রয়েছে।

তাদের বিশেষভাবে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পাম ভেইন রিকগনিশন প্রযুক্তি। নিকট-ইনফ্রারেড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাতের শিরার নকশা শনাক্ত করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়, যা নকল করা প্রায় অসম্ভব। এ ছাড়া ভেজা, ময়লাযুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত আঙুলেও এর কার্যকারিতা অক্ষুন্ন থাকে। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিনিধি দল উন্নত লাইভনেস ডিটেকশন-সমৃদ্ধ ফেসিয়াল রিকগনিশন টার্মিনালও পরীক্ষা করে, যা ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত সমন্বিত অ্যাক্সেস কন্ট্রোল গেটও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে অনুমোদিত প্রবেশের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপস্থিতিও রেকর্ড করা যায়। তারা বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পণ্যগুলোর ধুলা ও পানিরোধী সক্ষমতা, অফলাইন মোডে কাজ করার ক্ষমতা এবং বিভিন্ন তাপমাত্রায় কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন।

এ ছাড়া, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি তাদের সমন্বিত কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারও প্রদর্শন করে। ওই সফটওয়্যারে উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, শিফট ব্যবস্থাপনা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন একই ড্যাশবোর্ড থেকে পরিচালনা করা যায়। সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেরিতে উপস্থিতি, আগাম প্রস্থান ও অনুপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে এবং একাধিক শিফট, বিভাগ ও ব্ল্যাকলিস্ট ব্যবস্থাপনাও করতে সক্ষম।

পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রদর্শনের জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েকটি বায়োমেট্রিক পণ্যের অর্ডার দেন। একই সঙ্গে আইসিসি টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি স্থানান্তর, পণ্য কাস্টমাইজেশন, স্থানীয় কারিগরি সহায়তা এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়।

আইসিসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, ‘এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নত বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি বাংলাদেশে আসবে; যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা এবং বিভিন্ন নাগরিকসেবায় স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি চীনা প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তাদের বায়োমেট্রিক সমাধানের গতি, নির্ভুলতা ও নমনীয়তা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অবকাঠামোর সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

অপরদিকে চীনা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বাজার হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্টকর্মী ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির ব্যবহার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। তাদের মতে, এই সফর দুই প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর