ঢাকা: ডিজিটাল রূপান্তরের পরিবর্তিত বাস্তবতা, কৌশল, গল্প বলা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নতুন দিক নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ১২তম ডিজিটাল সামিট।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সামিটের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর পরিবেশনায় এবং ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন ও বিপণন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী নেতা, প্রযুক্তিবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ছিল ‘রিথিংকিং ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স’। দিনব্যাপী আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যাওয়া ভোক্তা আচরণ, প্ল্যাটফর্ম ডিসরাপশন এবং প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এবারের সামিটে ছিল ৩টি কিনোট সেশন, ৩টি প্যানেল ডিসকাশন, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি এবং ১টি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, ‘ডিজিটাল এখন আর কেবল একটি চ্যানেল বা ফাংশন নয়। এটি এখন সেই ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে প্রাসঙ্গিকতা, আস্থা ও প্রবৃদ্ধি। প্রযুক্তি যখন বাজার আর ভোক্তা আচরণকে নতুন করে সাজাচ্ছে, তখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশলগত স্পষ্টতা, সৃজনশীল উৎকর্ষ আর তথ্যনির্ভর প্রজ্ঞাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। এই সামিটের লক্ষ্য এমন অর্থবহ সংলাপ ও কার্যকর শিক্ষা তৈরি করা, যা নেতৃবৃন্দকে এই রূপান্তরের পথ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পাড়ি দিতে সাহায্য করবে।’

১২তম ডিজিটাল সামিটে তিনটি বিশেষ কিনোট সেশন পরিচালনা করেন বক্তারা। তাদের মধ্যে ছিলেন- তানভীর ফারুক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, কাজী মিডিয়া লিমিটেড; দ্রাবির আলম, চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর, এক্স – ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সি; এবং সালেহ ঘানায়েম, হেড মেটাপ (মিডল ইস্ট, টার্কি, আফ্রিকা অ্যান্ড পাকিস্তান), ইমার্জিং মার্কেট পার্টনারশিপ, টিকটক।

এই সেশনগুলোতে আলোচিত হয় নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—অ্যালগরিদম-চালিত বিশ্বে মানবকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, সোশ্যাল-ফার্স্ট মার্কেটিং কৌশল, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বিবর্তন, ক্রিয়েটর ইকোনমির উত্থান, ব্যবসার সহায়ক শক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যাওয়া ভোক্তা আচরণ এবং ব্র্যান্ড এনগেজমেন্টের ভবিষ্যৎ।
কিনোট সেশনের বাইরেও সামিটে আধুনিক মার্কেটিং ও ব্যবসায়িক কৌশলকে নতুন করে গড়ে তোলা শক্তিগুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। আলোচনায় উঠে আসে ভোক্তার পুরো যাত্রাপথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অ্যাটেনশন-ড্রিভেন মার্কেটিং থেকে ইন্টেলিজেন্স-ড্রিভেন এনগেজমেন্টে রূপান্তর, নতুন ডিসকভারি ইকোসিস্টেমের উত্থান এবং তথ্য, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব।
প্যানেল ও ইনসাইট সেশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহসানুর রহমান, পার্টনার ডিরেক্টর – গুগল বাংলাদেশ অ্যান্ড শ্রীলঙ্কা, অ্যালেফ গ্রুপ, ইনক; মুনাফ মোজিব চৌধুরী, হেড অফ ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন, অ্যাক্সেনটেক পিএলসি., এবং ফাউন্ডার, একসাথে ফাউন্ডেশন; সৈয়দা উম্মে সালমা ঝুমুর, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ইগনিশিয়া থ্রি সিক্সটি লিমিটেড; মাহাদী হাসান সাগর, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, গিকি সোশ্যাল; ইমতিয়াজ খান ইমরান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, এফসিবি বিটোপি; ইয়াসিন নুর, ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, ফাস্টকম এআই; এবং রফিউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর অব মার্কেটিং, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রমুখ।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ডিজিটাল সামিট এখন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, যোগাযোগ পেশাজীবী ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের অন্যতম প্রভাবশালী জ্ঞান-বিনিময়ের মঞ্চ। বছরের পর বছর ধরে এই আয়োজন উদীয়মান প্রযুক্তি, বদলে যাওয়া ভোক্তা আচরণ, উদ্ভাবন ও শিল্পের রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ১২তম সংস্করণও ডিজিটাল কৌশল, গল্প বলা ও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি আর অর্থবহ সংলাপকে একই মঞ্চে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ১২তম ডিজিটাল সামিটের পরিবেশনায় ছিলো মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই); সঞ্চালনায় ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর; স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার – অ্যালেফ গ্রুপ, ইনক., বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ); নলেজ পার্টনার – মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি); হসপিটালিটি পার্টনার – লা মেরিডিয়ান ঢাকা; অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার – টার্কিশ এয়ারলাইনস; এবং পিআর পার্টনার – ব্যাকপেজ পিআর।