বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চমানসম্পন্ন, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিসম্পন্ন এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানসমৃদ্ধ গ্রাজুয়েট তৈরি হয়। একই সঙ্গে তাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।’
শনিবার (২০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) চতুর্থবারের মতো এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কনফারেন্স স্পিকার ছিলেন নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জুট ও কোকোয়া সেক্টরের টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান মাইকেল কোক্কেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জার্মানির হোখশুলে নিডাররাইন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. বাস্টিয়ান কোয়াটেলবাউম।
স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম এমন হতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা অনুধাবন করতে পারে। উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য কেবল সনদ প্রদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন, সামাজিক জীবন এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার উপযোগী করে গড়ে তোলা।’
ড. মামুন আহমেদ জানান, ইউজিসি এমন একটি উচ্চশিক্ষা মডেল প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আজীবন সংযোগ ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও ধারাবাহিকভাবে নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান বিতরণ এবং জ্ঞান সংরক্ষণের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের চাহিদা ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারলেই উচ্চশিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে।’
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির যুগে দক্ষ মানবসম্পদই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা যেন কেবল দক্ষই না হয়, বরং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক গুণাবলিতেও সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী এবং টেকসই বাংলাদেশ গঠনে দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানসম্মত শিক্ষার সমন্বয়ই হবে আগামী দিনের প্রধান চালিকাশক্তি।’
সম্মেলনে ৪৮টি গবেষণাপত্র মৌখিকভাবে এবং ২০টি গবেষণাপত্র পোস্টার আকারে উপস্থাপন করা হয়।
এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।