ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের ৪ জন দগ্ধের ঘটনায় বাবার মৃত্যুর ৪ ঘণ্টা পর মারা গেছেন ছেলে রাকিব (১৬)।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে রাকিবের বাবা আব্দুল কাদিরের (৫০) মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, রাকিবের শরীরের ৩৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে রাকিবের জমজ ভাই সাকিব ১৭শতাংশ মেহেদী ১৮শতাংশ, দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছে। তাদের শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থাও গুরুতর।
এর আগে, গত সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হয় আব্দুল কাদির(৫০) তিন ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও তার জমজ ভাই রাকিব (১৬)।
তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে ভাড়া থাকেন আব্দুল কাদিরের পরিবার। তার ৩ ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। সোমবার সকালে তাদের বাসায় বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। তখন সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখেন, ওই বাড়িটির দরজা, জানলা ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় একে একে বের হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস থেকে অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।
মৃত রাকিবের চাচাতো বোন জুলিয়া আক্তার জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশআনি গ্রামে। তার চাচা আব্দুল কাদির অটোরিকশাচালক ছিল। আর তার ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করে এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করতো। ঘটনার সময় ৩ ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।