কক্সবাজার: কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত আরও এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসে নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। নিহত অপর আটজন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে ৪ টার কিছু পর কক্সবাজার শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সর্বশেষ আলী আকবর (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
জানা যায়, ভোর চারটার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ তার ঘরের ওপর ধসে ওপর পড়ে। এতে আলী আকবরসহ তার পরিবারের তিন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন। আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী পাহাড়ধসে আলী আকবরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার দিবাগত রাত একটা থেকে তিনটার মধ্যে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে নারী-শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরে এসব পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
মাটিচাপা পড়ে হতাহতের খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং ফায়ার সার্ভিস।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নং জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এর ফলে রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪) এর বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়ে। এ ঘটনায় ঘরের ভেতরে থাকা কামাল হোসাইন ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪) মাটি চাপা পড়ে। পরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই পরিবারের আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাত ১টা ৪৫ এর দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মাটি চাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ঐ ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।
ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।’
তারপর রাত ৩ টার দিকে ক্যাম্প প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালুখালী ১১ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিহত চারজন হলেন- ঐ ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (০৩)।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আ. মান্নান জানান, যারা পাহাড়ে অবস্থান করছেন তাদের নিরাপদ স্থানে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরও দুইদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
কক্সবাজারে উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে তাদের জন্য আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়েছে। এসব শিবিরে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম সর্তকতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মৃত্যু হচ্ছে।