ঢাকা: ইনোভেশন হাব বা আই হাব প্রতিষ্ঠা করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) শহিদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ইনোভেনশন হাব নিয়ে ওরিয়েন্টেশন সেশনে বক্তাদের আলোচনায় এ বিষয়টি উঠে আসে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও এ্যাডভান্সড ইন্টলিজেন্ট মাল্টিডিসিপ্লিনারি সিস্টেমস ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক খন্দকার এ. মামুন। তিনি ইনোভেনশন হাবের প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক রূপান্তর এবং একটি কার্যকর ইনোভেনশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া ইউআইইউতে প্রতিষ্ঠিত ইনোভেন হাবের অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে একটি সফল ও কার্যকর মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন।
অধ্যাপক খন্দকার এ. মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো ইনোভেনশন ইঞ্জিন। ইনোভেশনকে সফল করতে হলে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ১০টির মধ্যে ১টি সফল হলেও ৯টির ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। আইডিয়াকে ইনকিউভেট করার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। রিসার্চ, ইনোভেনশন, ইনকিউভেশন, কমারশিয়ালাইজেশন এ পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে হবে। এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বর্তমানে ফান্ডের চাইতে বেশি প্রয়োজন সহায়তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদিকে থাকবে লাইব্রেরি আর এর সঙ্গে থাকবে ইনোভেনশন হাব। বিএমইউতে যে পরিমাণ রোগী, প্রশিক্ষণের ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে তা প্রতিদিনই নিত্যনতুন ইনোভেনশনের আইডিয়া তৈরি হচ্ছে। এই অবারিত অসংখ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বিএমইউর ইনোভেনশন হাব হবে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। স্বাস্থ্যখাতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ হাবে উন্নীত হবে এই বিএমইউ। ভবিষ্যতে এআই এর সঠিক ব্যবহার এবং ইনোভেনশন হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএমইউর উদ্ভাবিত নিত্য নতুন উদ্ভাবনসমূহ শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আই হাব এক্সিকিউটিভ বডির চেয়ারপারসন বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, ডেটা সংরক্ষণ, রোগীর রেকর্ড রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান যুগে অথেনটিক ডেটা মূল্যবান সম্পদ। এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএমইউ’র শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনভিত্তিক জগতে বিরাট অবদান রাখবে সেই প্রত্যাশা করি।
ফিজিক্যাল মেডিসিন এ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান আই হাব আরএন্ডডি লিড অধ্যাপক ডা. এম. এ. শাকুর বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে হবে বিএমইউ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিএমইউ ভবিষ্যতে এই ইনোভেশন হাবকে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবন ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপাইয়ার টু ইনোভেট প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিএমইউ’র ইনোভেশন হাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে একটি নির্বাহী কাঠামো গঠন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ডীন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডীন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডীন অধ্যাপক এম আবু হেনা চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, আই হাব নির্বাহী কাঠামোর মডারেটর ফিজিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. তাসকিনা আলী, কো-মডারেটর বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবা উন নাহার, আই হাব ক্যাপ্টেইন শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোরশেদ, আই হাব কো-ক্যাপ্টেইন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মোরশেদ, কমিউনিকেশন লীড অবস এন্ড গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রিফাত রহমান প্রমুখসহ বিভিন্ন অনুষদের ডীনবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ শিক্ষকবৃন্দ, চিকিৎসকগণ ও রেসিডেন্টরা।