ঢাকা: দেশের দুগ্ধ খামারিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন সহজ করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে সিটি ব্যাংক, মিল্ক ভিটা ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোশিফট। এ লক্ষ্যে ৩ প্রতিষ্ঠান একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খামারিদের ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকায় সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান এস এম আমির হামজা শাতিল উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাগ্রোশিফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী বুলাদ মুসাব্বির, সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও স্মল, মাইক্রোফাইন্যান্স অ্যান্ড এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান কামরুল মাহদী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার আশানুর রহমান, মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্ম সচিব জাহিদুল ইসলামসহ ৩ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের দুগ্ধ খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নে সীমিত প্রবেশাধিকার। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ দুগ্ধ খামার রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯৪ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ অবদান রাখছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টন দুধ উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ায় পঞ্চম এবং বিশ্বে উনবিংশ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশের দুগ্ধবাজারে বার্ষিক গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তখন বাজারের আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে উৎপাদিত দুধের মাত্র ৯ শতাংশ বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় মিল্ক ভিটার ৩ হাজার ৩০০টির বেশি প্রাথমিক সমবায় সমিতি, ৬১টি চিলিং সেন্টার এবং দেশের ৫৭ জেলায় বিস্তৃত তিন লাখের বেশি খামারির নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে অ্যাগ্রিগেটর ডিজিটাল পরিচিতি, ই-কেওয়াইসি, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ঋণ ব্যবহারের তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
ডিজিটাল অবকাঠামোর ভিত্তিতে সিটি ব্যাংক খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকটি মোট ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪১৩ কোটি টাকা গেছে দুগ্ধ খামার খাতে, যা এ খাতের প্রতি ব্যাংকটির গুরুত্বের প্রতিফলন।
ভবিষ্যতে মিল্ক ভিটার সমবায় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক লাখের বেশি খামারিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা, দেশের ৬৪ জেলায় সম্প্রসারণযোগ্য একটি দুগ্ধ অর্থায়ন মডেল গড়ে তোলা এবং তিন লাখের বেশি খামারির জন্য একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।