ঢাবি: একঝাঁক তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। আপনাদেরকে হেল্প করার জন্য, আপনাদেরকে পথ দেখানোর জন্য, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সামনে উদ্যোক্তারা তাদের কাজ তুলে ধরেন। পরে তিনি উদ্যোক্তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপর ছয়টি নির্বাচিত স্টার্টআপকে অনুদান তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে বক্তব্য দেয়ার সময় তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আসলে বলার বোধহয় খুব বেশি কিছু নেই। যা বলার, সেটা বলা হয়ে গেছে। এখন বোধহয় কাজ করার সময়। আমি আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা আছেন, ভবিষ্যত উদ্যেক্তা আছেন আছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন-আপনাদেরকে একটা কথা আমি শুধু বলি, আপনারা যেটা করতে চাইছেন, ইটস নট সো ইজি, ইটস ভেরি ডিফিকাল্ট। কিন্তু আপনি পারবেন, যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার লাইফের একটু ছোট্ট একটা বিষয় তুলে ধরতে চাইছি, আপনাদেরকে নিরুৎসাহিত করছিন না আমি, আপনাদেরকে উৎসাহিত করতে চাইছি। দেখুন, আমার লাইফে আমি ব্যবসা-বাণিজ্য
করেছি, যতটুকু ডিসেন্টভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন। কারণ, আমার লাইফে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। কিন্তু বেঁচে থাকতে হবে, সেজন্য যতটুকু ব্যবসা-বাণিজ্য করা প্রয়োজন, ডিসেন্ট লাইফের জন্য, আমি ততটুকু করেছি। বাকি সময়টা আমি আমার রাজনীতির জন্য দিয়েছি। এখানেই আমি ঠিক করে নিয়েছি যে, এখানেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যেতে গিয়ে একটা মানুষকে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আমি গিয়েছি মানসিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন, বিভিন্ন রকম হিউমিলিয়েশন, বিভিন্ন রকম ফিজিক্যাল টর্চার, বিভিন্ন রকম যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আমি গিয়েছি। অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তারপর আমি আজকে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে, একটা জায়গায় এসেছি। আপনাদেরকে খুব সংক্ষেপে এটা বলার অর্থ হলো—আপনাদেরকেও এরকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’
তবে সরকার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে থাকবে বলে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি—আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। আপনাদেরকে হেল্প করার জন্য, আপনাদেরকে পথ দেখানোর জন্য, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। অতটুকু পারব আমি জানি না, বাট আমরা আছি। যতটুকু পারব, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদেরকে, আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব আমরা ইনশাআল্লাহ।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যেহেতু আমি রাজনীতি করি, মাঝে মাঝেই হয়তো হতাশ হয়ে যেতাম বা এখনও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা হতাশ লাগে। কিছুদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম যেখানে বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলের প্রায় ২২ লক্ষ বাচ্চা পার্টিসিপেট করেছিল। ক্লাস টু, থ্রি, ফোর, ফাইভ পর্যন্ত বিভিন্ন স্পোর্টসে। ওদের ফুটবল ম্যাচটা আমি দেখতে গিয়েছিলাম। এই বাচ্চাদেরকে দেখার পরে নিজেকে খুব কনফিডেন্ট মনে হয়েছে। আজকে আপনাদের কাজ এবং কয়েকটা বক্তব্য দেখে নিজে আরও কনফিডেন্ট হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, যেহেতু রাজনীতি করি, একটা তো আমার লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে, রাজনীতি আছে, দলের পরিকল্পনা আছে, সবকিছু আছে, কাজ আছে। কিন্তু যেহেতু দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, আমাদেরকে দেশকে নিয়েও চিন্তা করতে হয়। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমরা চিন্তা করি। আজকে যখন আপনাদেরকে দেখলাম এবং ওইদিন ওই দুটো ইভেন্টে ওই বাচ্চাদেরকে দেখেছি, আজকে আমার কাছে মনে হচ্ছে এই যে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করার চেষ্টা করছি, চেষ্টা করছি একটু চেঞ্জ করার জন্য, আমার মনে হলো যে হ্যাঁ, আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব, যারা আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, উপ-উপার্য (প্রশাসন) আল মোজাদ্দেদী আলফেছানি এবং সাদা দলের আহবায়ক মোর্শেদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।