ঢাকা: আগামীকাল (২ জুলাই) বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এবার পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সব বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন, মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সচিব বলেন, ‘এবার নকলের জন্য পরিচিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন, যার মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ হাজার ১৯৪ জন। এ ছাড়া ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন এনে আরও কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে আগের তুলনায় এবার পরীক্ষা আরও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে এনে ইতোমধ্যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হবে এবং ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’